খালেদার আপিলের রায় কাল – Diganta

নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে করা এক মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রাখা প্রশ্নে আদেশ দেয়া হবে মঙ্গলবার (২৬ জুন)।

এ বিষয়ে শুনানি শেষে সোমবার (২৫ জুন) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ আদেশের জন্য এই দিন ধার্য করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। এই মামলায় গত ৩১

মে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া ছয় মাসের জামিন আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত স্থগিত করেছিলেন আপিল বিভাগ। এর মধ্যে রাষ্টপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল করা নির্দেশ দেন আদালত। সে অনুযায়ী

রাষ্ট্রপক্ষ ইতোমধ্যে নিয়মিত লিভ টু আপিল দায়েরও করেছে। গত ২৮ মে বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বিএম হাসানের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ কুমিল্লার দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয়

মাসের জামিন দেন। পরদিন ২৯ মে দুপুরে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেন। একইসঙ্গে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

পরে ৩১ মে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ জামিন আদেশ ২৪ জুন পর্যন্ত স্থগিত করেন। এদিকে দুটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলায় জামিন বহাল প্রশ্নে আদেশের জন্য দিন

ধার্য করা হয়েছে ২ জুলাই। গত ২০ মে কুমিল্লার দুই মামলায় হাইকোর্টের অনুমতির পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম

মহাসড়কের হায়দার পুলের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশ কিছু গাড়ী ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় একই বছরের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে

নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে এই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। খালেদা জিয়াসহ ৩২ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়। মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চলমান। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেয় আদালত।

খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলে যে সিদ্ধান্ত দিলো আদালত

ঢাকা : নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় দায়ের করা মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিলের রায় কাল।

আজ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন আদালত। রষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। খালেদা জিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ, এজে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন।

নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ও বাস পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় করা দুটি মামলায় গত ২৮ মে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি ওই জামিন স্থগিত করে আবেদন দুটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। পরে ৩১ মে আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ বহাল রেখে ২৪ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে নির্দেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়মিত লিভ টু আপিল করে।

প্রসঙ্গত ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ২০ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে দুষ্কৃতিকারীদের ছোড়া পেট্রোল বোমায় আইকন পরিবহনের একটি বাসের কয়েকজন যাত্রীর অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়।

আহত হন আরও ২০ জন। সেসব ঘটনায় দু’টি মামলা করা হয়। একই বছরের ২ ফেব্র“য়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে আট যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় ৩ ফেব্র“য়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলাটি করে পুলিশ।

ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে ট্রাক খাদে পড়ে ৫ শ্রমিক নিহত

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রাক খাদে পড়ে চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হতাহত সবাই প্রাণ আরএফএল কম্পানির শ্রমিক। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কালিহাতী থানার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত যাত্রীরা জানান, তারা সবাই প্রাণ আরএফএল কোম্পানির শ্রমিক। ছুটি শেষে গাইবান্ধা থেকে দুটি ট্রাকযোগে অন্তত ১২০ জন সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেন।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার কাছে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে পড়ে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় অন্তত ৩৫ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে চারজন মারা যান। বাকিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কালিহাতী থানার ওসি (তদন্ত) মনসুর আলী আরিফ বলেন, ভোরে থানার কাছে সেতু পার হওয়ার সময় একটি ট্রাক উল্টে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হতাহতদের উদ্ধার করে। পরে তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

‘নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াত যা করছে’

আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিরা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা ষড়যন্ত্র করছে।

রোববার সংসদ ভবনস্থ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৪ দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াত অপশক্তিরা যদি ফের দেশে অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও কিংবা ধ্বংসাত্মক কোন কর্মকান্ড করার চেষ্টা করে তবে ১৪ দল ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সকল ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।

তিনি বলেন, বৈঠকে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় আগামী নির্বাচন জোটগত কিংবা মহাজোটগতভাবে অংশগ্রহণ এবং সকল শরিক বন্ধুদের নিয়ে একসঙ্গে পথচলার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণায় ১৪ দলের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

বৈঠকে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, গাজীপুর শুধু নয়, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে এবং নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপিসহ স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিরা নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করছে। জনমনে নির্বাচন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করার জন্য বল্লাহীন মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি, আগামী তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে। আর সবগুলো নির্বাচনই অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন।

এর আগে মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে ১৪ দলের বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান এমপি, গণতন্ত্রী পার্টির অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার, ওয়ার্কার্স পার্টির আনিসুল ইসলাম মল্লিক,

কামরুল আহসান, জাতীয় পার্টি (জেপি) সালাউদ্দিন আহমেদ, বাসদের রেজাউর রশিদ খান, ন্যাপের শফিক আহমেদ খান, তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরি, জাসদের করিম শিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃhttp://www.poriborton.com

বাবাকে হত্যাকারী মাদকাসক্ত যুবক ভাইয়ের হাতে খুন

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বাবাকে কুপিয়ে হত্যাকারী মাদকাসক্ত ছেলে সোহেল রানার (২৮) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে তার ছোট ভাই মেহেদী হাসানকে (২২)।

আটকের পর মেহেদী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় তাদের অপর ছোট ভাই হাফেজ এমরান বাদী হয়ে রোববার দুপুরে মেহেদীকে একমাত্র আসামি করে দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।

এর আগে ২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি নেশার টাকা না পেয়ে মাদকাসক্ত সোহেল রানা তার বাবা ইউনুছ মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করে।

সম্প্রতি ইউনুস মিয়ার বড় ছেলে সুমন মিয়াকে (৩২) মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় মাসের সাজা প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পৌর এলাকার মরিচাকান্দা গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে সোহেল মিয়ার গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে।

নিহত সোহেল রানা পৌর এলাকার মরিচাকান্দা গ্রামের বাদু মিয়ার বাড়ির মৃত ইউনুছ মিয়ার দ্বিতীয় ছেলে।

পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে নিহতের সেজো ভাই ডেকোরেটর ব্যবসায়ী মেহেদীকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদী হাসান হত্যাকান্ডের বর্ণনা দেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, নেশার কারণে একটি সুন্দর পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল।

পুলিশ জানিয়েছে, স্বীকারোক্তি প্রদানকালে মেহেদী হাসান ক্ষোভের সাথে জানায়- নেশাগ্রস্ত সোহেল পরিবারের শান্তি, সম্মান নষ্ট এমনকি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবাকেও নেশার টাকার জন্য হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, সোহেলকে মাদক আইনে এবং বাবাকে হত্যার অভিযোগে করাগারে পাঠালেও কারাগার থেকে বেড়িয়ে এসে আবারো নেশার জগতে চলে যায়। বাবার অবর্তমানে তিনি ডেকোরেটরের ব্যবসা দিয়ে সংসারের হাল ধরেন। এ ব্যবসাতেও সোহেলের নেশার টাকার চাপে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন

শনিবার দিবাগত রাতে সোহেলকে পুকুরপাড়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দেখে মেহেদী প্রথমে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে অচেতন করেন। পরে ছুরি দিয়ে তার গলাকেটে এবং বিভিন্ন অংশে আঘাত করে হত্যা করেন। পরে বাড়ির পাশে লাশ ফেলে আসেন।

পরনের রক্তাক্ত কাপড় ও ছোরাটি ধুয়ে ডেকোরেটর দোকানে রেখে মেহেদী বাড়িতে এসে ঘুমিয়ে থাকেন। পুলিশ আলামত হিসেবে হত্যাকারীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ডেকোরেটর দোকানে রক্ষিত ছোরা ও রক্তেভেজা কাপড়গুলো উদ্ধার করেছে।

একরামুলের বাড়িতে মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান

কক্সবাজার: টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত একরামুল হক কাউন্সিলরের বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।
রোববার দুপুরে একরামুলের মা হাফেজা খাতুনকে সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি বলেন, একজন বিচারককে দিয়ে এঘটনা তদন্তের জন্য সরকারের কাছে আমরা দাবি জানিয়েছি।
একরামুলের মা সন্তান হত্যার বিচার দাবি করেন। একরামুলের স্ত্রী ও দুই মেয়ে বাড়িতে ছিলেন না। ঘটনার কয়েকদিন পর থেকে তারা চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন।

সেখান থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, কোথাও মানবাধিকার লঙ্গিত হয়েছে বা মানবাধিকার লঙ্গিত হতে পারে বলে সন্দেহ হলে সে সমস্ত জায়গায় কমিশন প্রতিবাদ জানায়।

আমাদের সংবিধান আমাদের দেশের আইন, প্রচলিত আইন, পুলিশি আইন (পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল) সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া আছে কিভাবে অভিযান চালাতে হবে, সেগুলো অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র সন্দেহভাজনদের ধরার চেষ্টা করবে কিন্তু সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তালিকা যাতে সঠিক হয়। যাচাই বাছাই করে অভিযান চালাতে হবে। আইনের বিধি -বিধানমেনে চলতে হবে।

আইনের বাইরে গিয়ে কোনো মানুষ যাতে মৃত্যুবরণ না করে সেটা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

এব্যাপারে আমরা সরকারকে বারবার বলেছি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেছি, ডিও লেটার দিয়েছি, সংবাদ মাধ্যমে লিখেছি। মাদকবিরোধী অভিযানে যাতে এজাতীয় ঘটনা না ঘটে।

তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন একটা গাইড লাইন তৈরি করছে অভিযানে কি ধরণের আইন ফলো করতে হবে। আইনগুলো যদি ব্যবহার হয়, কোনো মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হবে না।

একরামুলের পরিবারের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, সরকারের। এই পরিবার যাতে কোনোভাবে আর কোনো ভোগান্তির শিকার না হয়।

এরকম ঘটনা আরও যেখানে হয়েছে সেখানেও আমরা বলেছি। একরামুল হক নিহতের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে সরকারের কাছে তিনি দাবি জানান। আমরা আশা করি এই বিচার হবে।

এ সময় মানবাধিকার কমিশন সদস্য মো. নজরুল ইসরাম, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসান, থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ূয়া উপস্থিত ছিলেন।

কেমন কাটল মেসির জন্মদিন?

গতকাল ২৪শে জুন মেসির ৩১তম জন্মদিন ছিল। তার ভক্ত ও অনুরাগীরা তাকে নানাভাবে উইশ করেছেন। কোটি কোটি মেসিভক্তের করুণ আর্তি। ৩১তম এই জন্মদিনে যুবরাজের জন্য ফুটবল ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, চার বছর আগে বিশ্বকাপে মারাকানায় কাপটা নাগালের মধ্যে থাকলেও চুমুক দিতে পারেননি, এবার যেন সেই অধরা স্বপ্ন পুরণ হয়।

যদিও রাশিয়ায় মোটও ভাল অবস্থানে নেই মেসিরা। কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন মেসি ও তার আর্জেন্টিনা। আকাশি-সাদা আকাশে আজ কালো মেঘ। পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জেতা আর বার্সেলোনার জার্সি গায়ে চারবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা আর্জেন্টাইন ফুটবলের যুবরাজ দেশের জার্সিতে কেন ব্যর্থ? মেসির স্কিলের মতোই সেটাও রহস্যে মোড়া।

রাশিয়ায় গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় না কি শেষ ষোলোয় পৌঁছবে আর্জেন্টিনা? উত্তর মিলবে মঙ্গলবার। ঘটা করে জন্মদিন পালনের কোনও সুযোগ নেই। তবু ৬০ কেজি ওজনের কেক তৈরি করেছে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বেসক্যাম্প ব্রেনিত্সি শহরে।

তবে জন্মদিনের পুরোটা জুড়ে মেসি তার সতীর্থদের সাথে আর্জেন্টিনার বেসক্যাম্পেই কাটিয়েছেন। এখানে তারা কঠোর অনুশীলন করছিলেন। অনুশীলনের ফাঁকে ফাঁকে সকলেই মেসিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান।

সার্গিও আগুয়েরো এবং দলের বাকি সদস্যরা সারাদিন মেসির সাথে হাসি মজাও করেন। দলের কোচ জর্জ সাম্পাওলি মেসিকে স্পেশালভাবে শুভেচ্ছা জানান।

মঙ্গলবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার সাথে লড়াই করে নক আউট পর্বে পৌঁছাতে পারবে কিনা, সে চিন্তায় এখন বিশ্ববাসী। কিন্তু আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের অনুশীলনে অনেকটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং প্রাণবন্ত মনে হয়েছে।

‘বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট’ মার্কা নির্বাচন!

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : গাজীপুর সিটি নির্বাচনে কেউ আইন অমান্য করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না। এমন কথাই বলেছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। আরও বলেছেন, আমরা আশা করি ২৬ জুন যে নির্বাচন হবে তা হবে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। ভোটাররা তাদের পছন্দ মতো প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে পারবেন। গাজীপুরের প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করবে নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে এবং এর পেছনে প্রশাসনের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল রোববারও সাংবাদিকদের একই কথা বলেছেন সিইসি।

তবে সিইসির দেয়া এমন বক্তব্যকে আমলেই নিচ্ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। যদিও বিএনপিসহ দেশের অধিকাংশ দলই বর্তমান সিইসিকে সরকার দলীয় হিসেবেই মনে করে। এবং তার পদত্যাগ দাবি করে আসছে। সিইসির বক্তব্য যে শুধুই লোকদেখানো সেটির প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। শনিবার রাত ১২টা থেকে বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান এবং প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেটি মানছে না আওয়ামী লীগ। দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা গতকাল রোববার নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন।

এদিকে বিরোধী নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার এবং বাসায় বাসায় তল্লশী অব্যাহত রয়েছে। ধানের শীর্ষ প্রতীকের পুলিং এজেন্ট এবং নির্বাচনী কাজের দায়িত্বে থাকা নেতাকর্মীদের অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। অবস্থা এমন যে, অনেক কেন্দ্রে বিএনপি তাদের প্রার্থীর পক্ষে এজেন্টও নিয়োগ করতে পারবে না। এ অবস্থায় দলটির নেতারা গতকাল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাথে দেখা করে গাজীপুর পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এর আগে যেদিন গাজীপুরে জামায়াতে ইসলামীর মেয়র প্রার্থী তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে সেদিন উক্ত মেয়র প্রার্থীসহ ৫৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর যেদিন আদালতে নির্বাচন স্থগিতের আদেশ আসে সেদিন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানকে আটক করা হয়। এছাড়া মামলা করা হয় দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজীপুরে নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ মদদে যেভাবে ক্ষমতাসীন দল মহড়া চালাচ্ছে তাতে সেখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। অনেকেই বলছেন, খুলনার আদলেই ‘বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট’ মার্কা নির্বাচনই হবে।
সূত্র মতে, নির্বাচন কমিশন শনিবার রাত ১২টা থেকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকা থেকে বহিরাগত ব্যক্তিদের চলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

২৬ জুন ভোটের দিন পর্যন্ত ওই এলাকায় বহিরাগত ব্যক্তিদের চলাফেরায় এই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে। ২২ জুন এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু কমিশনের এই নির্দেশনা ভেঙে গাজীপুরে নির্বাচনী কর্মকা- পরিচালনা করেছেন সরকারদলীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আজ নগরের হারিকেন এলাকায় মতবিনিময় সভা করেছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্যও দিয়েছেন। অন্যদিকে, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক চালিয়েছেন নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার না হওয়া সত্ত্বেও সেখানে প্রচারণা চালাচ্ছেন নওফেল। অবস্থানের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে নওফেল বলেন, এ ধরনের প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে তার জানা নেই। আওয়ামী লীগের নেতা খালেক তালুকদার সভা করেন শহরের চৌরাস্তা এলাকায়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের হারিকেন এলাকার বাসার নিচে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে উপস্থিত হন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও আদালতের আদেশে স্থগিত থাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম, শ্রমিক লীগ নেতা রায় রমেশ চন্দ্র।

গাজীপুর নির্বাচনের বাকি আর এক দিন। এরই মধ্যে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে সরকারি দলের কৌশল নিয়ে। অনেকেই বলছেন খুলনা সিটি নির্বাচনে নেওয়া কৌশলকে ভিত্তি ধরে সরকারি দল গাজীপুরে ছক কষছে। ক্ষমতাসীন দলটি খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নিজেদের নেওয়া কৌশলকে ব্যবহার করে জয় ছিনিয়ে আনতে চায়।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারও অভিযোগ করেছেন, খুলনা সিটি নির্বাচনে যে কৌশল ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ জিতেছে, গাজীপুরেও তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খুলনায় যেভাবে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে- একইভাবে গাজীপুরেও অবাধ ভোট হবে। উন্নয়নের লক্ষ্যে ভোটাররা নৌকা প্রতীককেই বেছে নেবে।

উল্লেখ্য, খুলনা সিটি নির্বাচনে সকাল ১১টার আগেই অনেক কেন্দ্রে ভোট শেষ হয়ে গিয়েছিল। অনেকেই ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়েও ভোট দিতে পারেননি। তাদের বলা হয়েছে, আপনার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। এছাড়া নির্বাচনের আগের দিন রাতে এবং নির্বাচনের দিন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রকাশ্যে সীল মারার দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে সরকারি দলের নির্দেশে চাকরিচ্যুতও করা হয়েছে।

খুলনার ন্যায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণার পাশাপাশি বিরোধী নেতাকর্মীদের গণহারে ধরপাকড়ের ঘটনায় গাজীপুরে ভোটারদের ভেতর উৎসাহের পরিবর্তে আতংক বিরাজ করছে। অনেকেই ভোট কেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন। শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গাজীপুরে ধানের শীষের নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং পুলিং এজেন্টদের পুলিশ গ্রেফতার করছে। এজেন্টদের বাড়িবাড়ি গিয়ে পুলিশ হয়রানি করছে এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে।

এ অবস্থায় নেতাকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। পুরো নির্বাচনী এলাকায় সরকার একটি ভীতির সঞ্চার করিয়েছে। বিএনপির অভিযোগ কোনো মামলা ছাড়াই নেতাকর্মীদের সাদা পোষাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে এবং খোঁজও দিচ্ছে না তাদের যে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গ্রেপ্তারকৃত সদস্যরা হলেন- কাশিমপুর অঞ্চলে সদস্য সচিব শাহিন, সদস্য শাহজাহান ডিলার, কোনাবাড়ির আহবায়ক ড. মিলন, সদস্য তাইজুল ইসলাম,৩০ নং ওয়ার্ডের বালিয়ারার সদস্য আব্দুস সামাদ, কাউলতিয়া অঞ্চলের সদস্য শাহ আলম,

টঙ্গির মরকুন টেকপাড়ার যুগ্ম আহবায়ক আবু সায়েম, ৩৬ নং ওয়ার্ডে গাছা অঞ্চলের যুগ্ম আহবায়ক ওমর ফারুক, ৪০ ওয়ার্ডে পূবাইল ইছালির সদস্যআব্দুস সামাদ, পূর্বাইলের সদস কাজিমউদ্দিন, ৩৫ নং ওয়ার্ডের সানওয়ে মডেল স্কুল কেন্দ্রের কাওসার জোসেন ও ২২ নং ওয়ার্ডে শাহাব উদ্দিন। রিজভী বলেন, পুলিশ প্রতিরাতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতাদের গ্রেপ্তারের জন্য বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে। শুক্রবার গোয়েন্দা পুলিশ স্থানীয় বিএনপির কাওয়ার হোসেন, গাছা অঞ্চলের ৩৫ ওয়ার্ডের ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদককে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও নেই।

নেতা-কর্মীর বাসা-বাড়িতে পুলিশ তল্লাসির নামে পরিবারের সদস্য গালাগাল, ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। গাজীপুর ও নারায়নগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ উদ্যোগে এইসব তল্লাশি চালাচ্ছে।

জানা গেছে, গাজীপুরে একতরফা নির্বাচন করতে পুলিশ গোটা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন একেবারেই নিরব, নিথর, নিশ্চল, চুপ হয়ে বসে আছে। বিএনপির পক্ষ থেকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের এই চক্রের হীন অনাচারমূলক কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী। তিনি বলেন, এসব বিষয় প্রতিকার চেয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো লাভ হয়নি। পুলিশ অভিযান-হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ডের যেকথা আমরা বলছি এটা এখন দূর আকাশের তারা। এই কমিশনের অধীনে কোনো এলাকায় নির্বাচনী মাঠ সমতল হওয়ার সম্ভব নয়।

আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছে তাও কমিশন ‘ চোখে দেখছে না’ বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, কাশিমপুর ও কোনাবাড়িসহ সকল অঞ্চলে ২০ দলীয় জোটের সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাসা-বাড়িতে পুলিশ প্রতিদিনই হানা দিচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী-সমর্থকদের তালিকা ধরে টার্গেট গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। এতে নেতাকর্মীরা ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

পুলিশ নেতাকর্মীদের বাড়ির গেট ও দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে গ্রেফতার করছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোন গ্রেফতারি পরোয়ানা নাই। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনৈতিক মিথ্যা অভিযোগে মামলার আসামী হলেও বর্তমানে জামিনে আছে। নির্বচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানানোর পরও পুলিশের গ্রেফতার অভিযান এখনো অব্যাহত আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজীপুরেও সরকার ‘খুলনা স্টাইলে’ একতরফা নির্বাচনের পায়তারা করছে। সরকার খুলনা স্টাইলে নির্বাচনের জন্যই পুলিশকে দিয়ে ধানের শীষের সমর্থক ভোটারদেরকে এলাকা ছাড়া করে সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে শ্মশান ভুমিতে পরিণত করেছে। যাতে ভোটারবিহীন নির্বাচন সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায়। খুলনায় ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রেই ছিল সরকারি দলের একাধিক নির্বাচনী প্যান্ডেল। বিএনপি প্রার্থীর প্যান্ডেল খুব বেশি ছিল না। প্রত্যেক কেন্দ্রে স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকা থেকে আসা নেতাদের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি।

ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকেরা গাড়ি ও মোটরসাইকেলে নৌকা প্রতীকের স্টিকার লাগিয়ে চলাচল করেছেন। গাজীপুরেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। এরই মধ্যে আশপাশের জেলা থেকে সরকার সমর্থিতরা গাজীপুরে এসে উপস্থিত হয়েছে। স্থানীয়রা এদেরকে কখনোই এলাকাতে দেখেননি বলে জানান।

নির্বাচনের পরিবেশের বিষয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, এখনো বহিরাগতরা এলাকাতেদ অবস্থান করছে। সরকারি দলের শীর্ষ নেতারা প্রচারণা চালাচ্ছে। বিরোধী নেতাকর্মীদের হয়রানি ও গ্রেফতার অব্যঅহত আছে। তিনি বলেন, আমাদের এজেন্টদের আটকে রাখার চক্রান্ত করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় আটকে রেখে তাদের কোনো কিছু করতে দেওয়া হবে না। তাদের নির্বাচন থেকে বাইরে রাখার চেষ্টা হচ্ছে।

গাজীপুর ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতারা বলেন, খুলনা আর গাজীপুরের পরিবেশ এক না। এটা অনেক বড় সিটি কর্পোরেশন। এক প্রান্তে কিছু ঘটলে খবর পেলে যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটে যেতে পারে। গাজীপুর বিএনপির সভাপতি ও হাসান উদ্দিন সরকারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজলুল হক মিলন বলেন সরকারি দলের হাজারো চাপের ভেতরেও ভোটের শেষ পর্যন্ত বিএনপি নেতা-কর্মীরা থাকবে। খুলনার মতো প্রহসনের চেষ্টা করা হলে গাজীপুরবাসী রুখে দাঁড়াবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সরকার ও ইসির জন্য এসিড টেস্ট। আমরা দেখবো এই নির্বাচনে তারা কী করে। খুলনার মতো যদি গাজীপুরেও নির্বাচন হয় তবে তার পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর। এ নির্বাচন দেখেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের পরে আমরা চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেবো রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো কিনা। আমরা মনোনয়ন দেবো, সবকিছুই করবো। কিন্তু গাজীপুরের নির্বাচন দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।

উৎস: দৈনিক সংগ্রাম

গাজীপুরে ‘জঙ্গি’র ডেরায় অভিযান – Diganta

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির আস্তানা সন্দেহে গাজীপুরের শ্রীপুরে এক বাড়ি ঘিরে ১১ ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। পরে আবদুর রহমান (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

তিনি বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া। ভাড়ায় চালিত গাড়িচালকের পরিচয়ে স্ত্রীসহ দুই মাস আগে তিনি কক্ষটি ভাড়া নেন। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে আবদুর রহমান। অভিযান শেষে তাঁর স্ত্রী শামসুন নাহারকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এডিসি আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের জানান, পুরনো জেএমবির আস্তানা সন্দেহে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। গতকাল রবিবার ভোর পৌনে ৪টা থেকে বিকেল পৌনে ৩টা পর্যন্ত অভিযান চলে।

পুলিশের ঘিরে রাখা এলাকা থেকে দুপুর ২টা থেকে বিকেল পৌনে ৩টার মধ্যে চারটি বিকট শব্দ শোনা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া চারটি বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে বিশেষজ্ঞ দল।

কক্ষ তল্লাশি করে অস্ত্র ও এসব বিস্ফোরক পাওয়া যায় বলে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান। দুপুরে ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থল পৌঁছে তা নিষ্ক্রিয় করে।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটি) উপকমিশনার মহিবুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইং ল’ফুল ইন্টারসেপশন সেলের (এলআইসি) সঙ্গে ব্যাকআপ টিম হিসেবে তাদের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

মাওনার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড এলাকার আলহেরা হাসপাতালঘেঁষা সড়কের পাশে দোতলা বাড়িটির অবস্থান। বাড়ির মালিক পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ভোর ৪টার দিকে তিনি ওজু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ওই সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পরিচয়ে এক কর্মকর্তা তাঁকে ডাকেন। তাঁর সঙ্গে থাকা সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাড়ির ভেতর গিয়ে নিচতলার একটি কক্ষ থেকে ভাড়াটিয়া আবদুর রহমানকে আটক করেন।

বাড়ির মালিক জানান, বাড়ি ভাড়া নেওয়ার আগে আবদুর রহমান ভাড়ায় চালিত গাড়িচালক বলে তাঁর কাছে পরিচয় দিয়েছিলেন। তিন হাজার টাকা ভাড়ায় দুই মাস ধরে স্ত্রী শামসুন নাহারসহ তাঁর বাড়িতেই রয়েছেন আবদুর রহমান।

বাড়ির মালিক আরো জানান, তিনি জানতেন, স্থানীয় একটি রেন্ট এ কারের প্রাইভেট কার চালান আবদুর রহমান। তবে মাওনাসহ আশপাশের বিভিন্ন রেন্ট এ কারে খোঁজ নিয়ে আবদুর রহমান নামে কোনো গাড়িচালকের তথ্যের সত্যতা মেলেনি।

রফিকুল ইসলাম আরো জানান, আবদুর রহমানকে আটকের ঘণ্টাখানেক পর তল্লাশি চালিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই কক্ষ থেকে তিনটি পিস্তল ও চারটি বোমা পাওয়ার কথা জানান তাঁকে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ একটি পিস্তল আমাকে দেখিয়েছে। তবে বোমাগুলো ভাড়াটিয়ার কক্ষে রাখা ছিল।’

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সবুর বলেন, ‘আপনি কালিয়াকৈর সার্কেল এএসপির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’ গাজীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) শাহিদুল ইসলামকে অনেকবার ফোন করা হলেও কেউ তা ধরেননি।

তারেক রহমান অবশ্যই ব্রিটিশ নাগরিক!

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট স্যারেন্ডার করে নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন বলে চ্যালেন্স ছুড়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

রোববার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তারেক রহমান তার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন তার অনেক প্রমাণ রয়েছে।

সম্প্রতি একটি বিট্রিশ কোম্পানির ডিরেক্টর হিসেবে তার নাম উল্লেখ রয়েছে, সেখানে তার নাগরিকত্বের উল্লেখ করা হয়েছে ‘ব্রিটিশ’। যদিও ৪ মাস পরে তা তুলে বদল করে বাংলাদেশি উল্লেখ করা হয়েছে। উইকিলিসসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এটি প্রকাশ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, আমি যখন বললাম তারেক রহমান বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বর্জন করেছে, তখন বিএনপির পক্ষ থেকে আমাকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়।

আমি তাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে প্রমাণ করে দিয়েছি সত্যি তারেক রহমান আর বাংলাদেশি নাগরিক নয়, তিনি পাসপোর্ট স্যারেন্ডার করে নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। তার ব্রিটিশ পাসপোর্টও থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীর একটি ভিডিও এডিট করে প্রবাসীদের ভুল বুঝিয়ে বলা হচ্ছে অর্থমন্ত্রী নাকি প্রবাসীদের আয়ের ওপর বেশি ট্যাক্স আরোপ করেছেন। যে ভিডিওটি পুরো ভুয়া বলে মন্তব্য করেন শাহরিয়ার আলম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি এ বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭.৬৫ শতাংশে উন্নীত হবে। আর এটি হলে বিশ্বের যে কোন দেশের চেয়ে বড় সাফল্য অর্জিত হবে।
উৎস: যুগান্তর

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন, কারা আসছেন দায়িত্বে?

অতীতে বিএনপির সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে মূল ভূমিকা পালন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই সংগঠনের অবস্থা আজ বেহাল। ছাত্রদল কি তার সোনালি অতীত হারিয়ে যেতে চলেছে? এমন বহু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে খোদ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে।

কিন্তু এর কোনো উত্তর তাদের জানা নেই। তবে ছাত্রদলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবিÑ যত দ্রুত সম্ভব নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করে সংগঠনকে বাঁচানো হোক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ থেকে চার বছর আগে যখন ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়, তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এক ধরনের অঙ্গীকার করেছিলেন যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা নিয়মিত শিক্ষাঙ্গনে যাবেন।

শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকারসহ তাদের সব দাবির পক্ষে থাকবেন এবং সাংগঠনিক সব জেলা, মহানগর, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেবেন। কিন্তু গত চার বছরে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি বললেই চলে। দেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও ছাত্রদল নেই বলা যায়।

শুধু কি তাই? রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা বেশি পছন্দ ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের। কোনো বিক্ষোভ-সমাবেশ কর্মসূচি দুই চার মিনিট স্থায়ী না হলেও ফেসবুকে ছবিসহ কর্মসূচির জানান দিতে কসুর করেন না তারা। এ নিয়ে বিএনপি এবং ছাত্রদলে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

জানা গেছে, দুই বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে ছাত্রদল। রাজীব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৭৪৩ সদস্যের বিশাল আকৃতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।

সেই থেকে একাধিকবার ছাত্রদলের সিনিয়র নেতাকর্মীরা বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। তারা বৈঠক করে দ্রুত নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের দাবিতে বিএনপি মহাসচিবসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান বর্তমানে জেলে রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মাসখানেক আগে কারামুক্ত হয়েছেন। যদিও ছাত্রদলের শীর্ষ তিনজন নেতা বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তাদের নামে অর্ধশতাধিক মামলা ঝুলছে। বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে তাদের পদ দেয়ার সময়ই কথা ওঠে ছাত্রদলেও নতুন নেতৃত্ব আসছে।

জানা গেছে, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও চেয়েছিলেন ছাত্রদলের নতুন কমিটি। সে মোতাবেক কাজও চলছিল। কিন্তু বিএনপির কয়েকজন নেতা দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সে সময় ভুল বুঝিয়ে কমিটি দেয়া থেকে বিরত রাখেন।

সম্প্রতি বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ফলে ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনেও শুরু হয়েছে তোড়জোড়। তৃণমূল থেকে নতুন কমিটি গঠনের চাপও রয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে বা কোরবানি ঈদের আগেই নতুন কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা জানান, ১০৯টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে চার বছরে অর্ধশতাধিক শাখায় নতুন কমিটি দেয়া হয়েছে। কয়েকটি সাংগঠনিক জেলা শাখার কমিটি শিগগির দেয়া হচ্ছে। বাকি কমিটিগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ। অধিকাংশ আংশিক কমিটির মেয়াদ শেষ। সম্প্রতি নতুন কিছু জেলা কমিটি গঠন করা হলেও এ নিয়ে রয়েছে বিতর্ক।

এরপরও যেসব জেলায় নতুন কমিটি হয়নি তা শিগগিরই শেষ করে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ছাত্রদলে শৃঙ্খলা ও গতি বজায় রাখার স্বার্থে হলেও নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন এখন সময়ের দাবি বলে তাদের অভিমত।

ছাত্রদলের জেলা-মহানগর, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রায় সবগুলোই গড়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ১০ বছর। কোনো কোনো সাংগঠনিক জেলার মেয়াদ এক যুগেরও বেশি সময় ছাড়িয়েছে। সেখানকার ছাত্রদল সভাপতির বয়স ৪০-৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে। যেমন গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি হান্নান মিয়া হান্নু এখন মহানগর বিএনপির নেতা এবং গাজীপুর সিটি নির্বাচনের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন।

তার মতো বহু নেতা ছাত্রদল করেই জীবনের অর্ধেকটা সময় কাটিয়েছেন। দেশের অনেক জেলায়ও একই অবস্থা। এসব জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা বয়সে ৪০ ঊর্ধ্বে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা ও পৌরসভা পর্যায়ে ছাত্রদলের কমিটি বলতে কিছু নেই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী নির্যাতন, টিউশন ফি বৃদ্ধিসহ কোটাবিরোধী আন্দোলনেও ছাত্রদলের কার্যকর কোনো ভূমিকা ছিল না। তবে মাঝেমধ্যে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েই জানান দেয় ছাত্রদল।

রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণায় সরব থাকেন ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা। ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা রাজনীতিকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। ফেসবুকনির্ভর প্রচারণা থেকে বিএনপি ও ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনগুলোকে বেরিয়ে আসা উচিত।

মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে নতুন করে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে বর্তমান কমিটির বড় অংশ। তারেক রহমানকেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তবে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় বিষয়টি ঝুলে আছে। এরপরও আন্দোলন-সংগ্রামের কথা বিবেচনায় নিয়ে শিগগিরই সংগঠনটির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

শীর্ষ পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ : জানা যায়, ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাজীব আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণাও চালাচ্ছেন। ফলে ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে তাদের কোনো পদে রাখার সম্ভাবনা নেই।

এবার ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদে আলোচনায় আছেন আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, আসাদুজ্জামান আসাদ, ইসহাক সরকার প্রমুখ। তাদের সবাই একাধিক মামলার আসামি। এ ছাড়াও আলোচনায় আছেন মামুন বিল্লাহ, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, মফিজুর রহমান আশিক, নূরুল হুদা বাবু, মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, কাজী মোকতার,

মির্জা ইয়াসিন, আবদুর রহিম সেতু, নাহিদুল ইসলাম সুহাদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন। তারা সবাই শীর্ষ নেতৃত্ব পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাবেক এক সভাপতি ও বর্তমানে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা যে সময় ছাত্র রাজনীতি করেছি এখনকার মতো তখন কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি ছিল না। এখনকার ছাত্রনেতাদের মতো বাড়ি-গাড়িও ছিল না।

ছাত্র আন্দোলন তথা ছাত্রদলের আন্দোলনের তোড়ে টিকতে পারেনি স্বৈরাচার এরশাদ সরকার। কিন্তু আজকে ছাত্রদলের রাজনৈতিক অবস্থা শোচনীয়। যত দ্রুত সম্ভব ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। যারা দীর্ঘ দিন ধরে রাজনীতি করছে তাদের তো জায়গা দিতে হবে। তা না হলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।

বাদী পুলিশ ইন্সপেক্টর হেলাল পরিকল্পিত হত্যার শিকার!

নিজস্ব প্রতিবেদক: চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার মামলার বাদী পুলিশের ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৭ জুন রবিবার হেলাল উদ্দিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জামায়াতে ইসলামীর নিরাপদ আস্তানা হিসেবে খ্যাত ফেনীর রামপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

তবে এটিকে দুর্ঘটনা না বলে পরিকল্পিত হত্যা বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী ইয়াছমিন জুয়েলের অভিযোগ- ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়ার পর সে সময়ের সরকার তাকে হয়রানিমূলক বদলিসহ মানসিকভাবে নির্যাতন করেছিল। ওই সময় তাকে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছিল। যারা হত্যার হুমকি দিয়েছিল তারাই পরিকল্পিতভাবে তাকে খুন করেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) জেটি ঘাটে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালানটি ধরা পড়ে। সিইউএফএল জেটিতে অস্ত্র খালাসের খবরটি প্রথম জানতে পারেন সে সময়ের চট্টগ্রাম ট্রাফিক পুলিশের বন্দর থানার সার্জেন্ট, নগরীর বন্দর থানার কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এবং বর্তমানে বন্দর থানার পুলিশের প্যাট্রোল ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দিন এবং তারই সহকর্মী বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আলাউদ্দিন। তারা দুজন প্রথমেই ওই জেটিতে ছুটে যান এবং অবৈধভাবে অস্ত্র খালাস ধরিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের পর ২০০৫ সালে ক্ষমতাসীন সরকারের রোষানলে পড়ে সেই চালান থেকে দুটি একে-৪৭ রাইফেল চুরি করে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগে হেলাল উদ্দিন ও আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাদের নামে নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানায় মামলাও হয়েছিল।

এই দুজন পুলিশ সদস্যকে চাকরিচ্যুতও করা হয়। তাদের উল্টো অস্ত্র মামলায় আসামি করে পাঠানো হয় জেলে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে তাদের মামলা প্রত্যাহার হয়। ২৮ মাস কারাবাস শেষে মুক্তি মেলে তাদের। এরপর ২০১১ সালে দুজন চাকরি ফিরে পান।

২০১২ সালের ২৯ ও ৩০ জুলাই ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন হেলাল উদ্দিন। এ সময় তিনি ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরিয়ে দেয়ার অপরাধে তাদের গ্রেপ্তারের পর র‌্যাবের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সে সময়ের পিপি কামাল উদ্দিন আহমেদ তখন আদালতে বলেছিলেন, সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন ও আলাউদ্দিনের কারণে ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এ জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার তাদের অস্ত্র মামলার আসামি করে ও গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করে। পায়ে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতে সাক্ষ্য দিতে এনে তাদের হয়রানি করে।

দ্বিতীয় দফায় দেয়া সাক্ষ্যে হেলাল উদ্দিন জানিয়েছিলেন, ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের সময় আবুল হোসেন নামে একজন উলফা নেতা তাদের বাধা দিয়েছিলেন। পরে টিআই প্যারেডে (আসামি শনাক্তকরণ) তিনি আসামি মেজর লিয়াকতকে আবুল হোসেন বলে শনাক্ত করেছিলেন।

চোরাচালান ও অস্ত্র আইনে দায়ের হওয়া দুই মামলার রায় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ-১ এস এম মুজিবুর রহমান। চোরাচালান মামলার রায়ে জামায়াতের আমির (যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত) ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। অস্ত্র মামলার রায়ে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

পরিবারের অভিযোগ- ২০০৪ সাল থেকেই আসামিরা হেলাল উদ্দিনকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। আদালতে সাজা হওয়ার পর আসামিদের অনুসারীরা হেলালকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তারা হেলালের গতিবিধি নজরদারি করছিল।

বন্দর থানার পুলিশের প্যাট্রোল ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় ছুটি পেয়ে বাড়িতে আসেন। ঈদের পরের দিন গত রবিবার গ্রামের বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরার পথে দুপুর ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জামায়াতে ইসলামীর নিরাপদ আস্তানা হিসেবে খ্যাত ফেনীর রামপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন।

তার গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লেগে ছিটকে গিয়ে আরো একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। উক্ত প্রাইভেটকারের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক ফেনী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গত সোমবার বিকেলে উপজেলার বড়গোবিন্দপুর শাহী ঈদগাহ মাঠে নিহতের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়। এ সময় তার কফিনে বাংলাদেশের পতাকা জড়িয়ে দেয়া হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টায় গোবিন্দপুর গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত হেলাল চান্দিনা পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের বড়গোবিন্দপুর ভূঁইয়া বাড়ির মরহুম আমির আলী ভূঁইয়া মাস্টার ও হোসনেয়ারা বেগমের বড় ছেলে। হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকতেন কুমিল্লা শহরে। দুই সন্তানের মধ্যে তার মেয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে গত বছর এইচএসসি পাস করেছেন, ছেলে কুমিল্লা জেলা স্কুলের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

হেলালের স্ত্রী ইয়াছমিন জুয়েল অভিযোগ করে বলেছেন, আমার স্বামী পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার। তাকে যে কোনো শত্রু পেছন থেকে ধাওয়া করেছিল। না হয় পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছিল। তিনি সরকারের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

ইয়াছমিন জুয়েল আরো অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর ফেনী সদর হাসপাতালে হেলাল উদ্দিনের চিকিৎসায় অবহেলা করেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। চিকিৎসায় অবহেলার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে জেনেও চিকিৎসক তাদের রক্তের কথা বলেনি। এ ছাড়া যে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ফেনী থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল, সেটিতে অক্সিজেন, এসি এবং ইমার্জেন্সি সাইরেন পর্যন্ত ছিল না। এমনকি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও দ্রুত সেবা পাননি।

তিনি বলেন, আমার স্বামী কোনো অপরাধ করেনি। তিনি অবৈধ ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে দেশ ও জাতীর উপকার করেছে। অপরাধ না করেও আমার স্বামী আড়াই বছর জেল খেটেছেন। পরবর্তী সময় ফের চাকরিতে যোগ দিলেও এক মাসে ৪ বার হয়রানিমূলক বদলিসহ নানাভাবে মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমি পুলিশের আইজি স্যারের কাছে স্বামীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছি। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের কথা দিয়েছেন।

স্থানীয় কেরণখাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হারুন-অর রশিদ বলেন, হেলাল শান্ত স্বভাবের ছিলেন। এ দুর্ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় আছে কি না তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানাচ্ছি। মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল আওয়াল বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত হেলাল উদ্দিনের প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র: ভোরের কাগজ

২২ জুন মারা গেছেন এরশাদ!

নিউজ ডেস্ক :২০১৮ সালের ২২ জুন মারা গেছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। জলজ্যান্ত এই মানুষটি মৃত্যুর এই তারিখটি দেখাচ্ছে জনপ্রিয় ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগল।

রবিবার (২৪ জুন) দিবাগত রাত ২টায় ‘Hussain Muhammad Ershad’ সার্চ করলে গুগুল তার মৃত্যুর তারিখ দেখায় ২২ জুন, ২০১৮।

তবে গুগলের এই ভুলের আগে ভূল করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন মুক্তকোষ উইকিপিডিয়া।

গত ২৪ জুন সাবেক এই রাষ্ট্রপতিকে মৃত দেখিয়েছিল উইকিপিডিয়া। পরে অবশ্যই সেটি ঠিক করে দেয়া হয়। তবে গুগল এখনও তাদের ভুলটি রেখে দিয়েছে।

বাংলা উইকিপিডিয়ার প্রশাসক নুরুন্নবী চৌধুরী হাছিব বলেন, ‘উইকিপিডিয়া সবাই সম্পাদনা করতে পারেন। কেউ হয়তো সম্পাদনা করে এ তথ্যবিভ্রাট তৈরি করেছিল। সঙ্গে সঙ্গেই সেটি ঠিক করা হয়েছে।

এখন যে ভুল তথ্যটি দেখা যাচ্ছে, সেটি গুগলে। গুগল আর উইকিপিডিয়া আলাদা। একটির সঙ্গে আরেকটির কোনো সম্পর্ক নেই।’

উৎস: শীর্ষ খবর

পোল্যান্ডের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে উল্লাসে কলম্বিয়া

মস্কো: রাশিয়া বিশ্বকাপ-২০১৮ এ গ্রুপপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয় পেয়েছে এইচ গ্রুপের ফেভারিট কলম্বিয়া।

নিজেদের প্রথম ম্যাচ পরাজয়ের ফলে হারলেই বাদ এমন সমীকরণের ম্যাচে জয়ের ফলে স্বস্তিতে কলম্বিয়া আর বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলো গ্রুপের অপর ফেবারিট পোল্যান্ড।

বাংলাদেশ সময় রবিবার (২৪ জুন) রাত ১২টায় শুরু হয় এইচ গ্রুপের এই দল দুটির খেলা। শুরু থেকেই সমানে সমান চলা ম্যাচের ৪০ মিনিটে কর্ণার থেকে পাওয়া বলে হেড করে গোলটি করেন ইয়েরি মিনার। একই ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লাতিন আমেরিকার দেশটি।

দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ৮ নম্বরে থাকা পোলিশরা। ম্যাচের ৭০ মিনিটে সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন র‌্যাংকিংয়ের ১৬ নম্বরে থাকা কলম্বিয়ার রাদামেল ফালকাও। ফার্নান্দো কিনতেরোরের এগিয়ে দেয়া পলে গোল ব্যবধান বাড়িয়ে দেয় ফালকাও। ঠিক ৫ মিনিট পরেই পলিশদের বিদায় প্রায় নিশ্চিত করেন হুয়ান কুয়াদ্রাদো। মাঝ ফিন্ডে হামেস রদ্রিগেজের বাড়িয়ে দেয়া বলটি ৭৫ মিনিটে জালে জড়িয়ে গোল ব্যবধান ৩-০ করেন কুয়াদ্রাদো।

কলম্বিয়া তাদের প্রথম ম্যাচ ১৯ জুন জাপানের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে। আর এই গ্রুপের অপর ফেভারিট পোল্যান্ড একই দিন সেনেগালের কাছে হেরেছে। ফলে দুই ম্যাচই হেরে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ের আগাম বার্তা পেয়ে গেল দলটি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, চ্যানেল নিউজ এশিয়া