সোনা নিয়ে যা বললো বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টের সোনা কেলেঙ্কারির যে তথ্য সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ওই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এ বিষয়টি পরিষ্কার করতে মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) বিকেলে মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে সোনা কেলেঙ্কারির অভিযোগ সত্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে ছয়টি স্টেপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে।

সমস্যা যেটা দেখা গেছে সেটা হলো, এই সোনা যখন রাখা হয়েছিল তখনকার গুণগত মান নিয়ে। এই গুণগত মানের যে পার্থক্য তা হলো ৪০ এবং ৮০।

তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বর্ণকার যখন এটা পরীক্ষা করেছেন তখন ৪০ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা দেখেছেন কিন্তু লেখার সময় ৮০ হয়ে গেছে, এছাড়া কোনো ব্যতয় হয়নি।

এর আগে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট কাস্টম হাউসের গুদাম কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ গোলাকার কালো প্রলেপযুক্ত একটি সোনার চাকতি এবং একটি কালো প্রলেপযুক্ত সোনার রিং বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ওই চাকতি এবং আংটি যথাযথ ব্যক্তি দিয়ে পরীক্ষা করে ৮০ শতাংশ (১৯ দশমিক ২ ক্যারেট) বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে গ্রহণ করে প্রত্যয়নপত্র দেয়।

কিন্তু দুই বছর পর পরিদর্শন দল ওই চাকতি ও আংটি পরীক্ষা করে তাতে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ (১১ দশমিক ২ ক্যারেট) সোনা পায়। আংটিতে পায় ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ সোনা (৩ দশমিক ৬৩ ক্যারেট)। ধারণা করা হচ্ছে ভল্টে রাখার পর এগুলো পাল্টে ফেলা হয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, ভল্টে থাকা সোনার চাকতি এবং আংটি পরীক্ষার পর দেখা গেল এগুলো সোনার নয়, অন্য ধাতুর মিশ্রনে তৈরি। এতে সরকারের ১ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এদিকে, সোনা কেলেঙ্কারির এমন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্য দিতে শুরু করেন। মঙ্গলবার সকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ ঘটনাকে সকালের গাফিলতি বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারের গাফিলতিতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।’

মধ্যরাতে স্কুলছাত্রীর ঘরে এসআই, অতঃপর…

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার রামচন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের টুআইসি এএসআই শিবু হালদারের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ক্যাম্প পার্শ্ববর্তী মহিষগাড়ি গ্রামের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে প্রতারণা করেছেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্কেরও অভিযোগ উঠেছে। খবর সময়ের।

অভিযোগে জানা গেছে, ওই ছাত্রীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন টুআইসি এএসআই শিবু হালদার। এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দীর্ঘদিন এ ঘটনা চলার এক পর্যায়ে গত ৯ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে গ্রামের কিছু যুবক ওই ছাত্রীর বাড়ি থেকে শিবু হালদারকে ধরে ফেলে।

তাকে মারধর শুরু করলে এক পর্যায়ে অস্ত্র উচিয়ে বাড়ি থেকে পালাতে সক্ষম হন তিনি। শিবু হালদার ও কনস্টেবল বেলায়েত সাদা পোশাকে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন।

বেশির ভাগ সময় শিবু হালদার নির্ধারিত সরকারি পোষাক না পরে সাদা পোশাকে এলাকায় অবস্থান করেন বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এদিকে সরেজমিনে মহিষগাড়ি গ্রামে গিয়ে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্প পুলিশ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। ঘটনা সম্পর্কে কেউ কিছু বললে তাদের হুমকিও দেয়া হচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানিয়েছেন।

পুলিশের নারী কেলেঙ্কারীর এ ঘটনা মহিষগাড়ি, মাইলমারি, শেখপাড়া, রামচন্দ্রপুরসহ কয়েক গ্রামের হাজার হাজার মানুষের মুখে মুখে ঘুরে ফিরছে। তারা এর তদন্ত সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে ওই কিশোরী সহ তাদের পরিবার গ্রাম ছাড়া হয়েছে।

তাদের বাড়িতে কাউকে দেখা যায়নি। ঘটনার পর থেকে পরিবারটি গ্রাম ছাড়া। ৩ লাখ টাকায় ঘটনা মিমাংসার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারকে।

রামচন্দ্রপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. রিয়াজ হোসেন মেয়ের পরিবারকে দফায় দফায় হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া ঘটনাকে পুঁজি করে সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতারক পক্ষে-বিপক্ষে মেয়ের নানা রকম বক্তব্য ভিডিও করে রেখেছে। ক্যাম্পেও অনেকে ফোন করে নিউজ করার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করছে বলে জানা গেছে।

গ্রামের অনেকে বলেছেন, কার্ড দেখিয়ে বা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক পরিচয়ে মেয়ের পরিবার ও গ্রামবাসী বক্তব্য নিয়েছেন। নানা কথা বলেছেন কিন্তু টিভি পত্রিকার খবরে আসেনি। মোটা অংকের টাকায় সব ম্যানেজ করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

মধ্যরাতে ওই স্কুলছাত্রীর বাড়িতে যাওয়া ও ঘটনা প্রসঙ্গে এএসআই শিবু হালদার বলেন, মেয়েটির মা একটি গাছ বিক্রি করবে। পূর্ব পরিচিতির সম্পর্ক ধরে তাদের বাড়িতে মধ্যরাতে নয় সন্ধ্যার দিকে গিয়েছিলাম । তারপর একটি মিথ্যা ঘটনা কেউ কেউ সাজিয়েছে বলে আমি শুনেছি।

আর রামচন্দ্রপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. রিয়াজ হোসেন বলেন, আগের একটি আসামি ধরাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী উপজেলা হরিণাকুণ্ডুর একটি মহল শিবু হালদারের ওপর অসন্তোষ ছিল। তাদের মাধ্যমে কিছু রটিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি এএসআই শিবু হালদারের কোন ত্রুটি বা দোষ খুঁজে পাননি বলে জানিয়েছেন।

শৈলকুপা থানার ওসি কাজী আইয়ুবুর রহমান জানান, আমি মঙ্গলবার শৈলকুপা থানায় যোগদান করেছি। এমন কোন ঘটনা জানা নেই। তবে খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।

বিএনপির সঙ্গে বসতে আ. লীগের পাঁচ শর্ত

সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ. টি. ইমামসহ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। আর গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক

ওবায়দুল কাদেরেরে সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। দুটি আলোচনাতেই বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ও এতে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে আলাপ হয়েছে।

জানা গেছে, কূটনৈতিক ভাবে বিভিন্ন দেশ ও জোট ক্ষমতাসীন দলকে চাপ দিচ্ছে। অনুরোধ করা হচ্ছে, যেন নির্বাচনের আগে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপের সূচনা করা হয়। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক যেন হয় সেই কথা বলছে ইইউ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতে ওবায়দুল কাদের এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে যাওয়া এইচ. টি. ইমাম কূটনীতিকদের কাছে বিএনপি সঙ্গে আলোচনায় যেতে পাঁচটি শর্ত দিয়েছেন।

১. বিএনপি গঠনতন্ত্র থেকে বাদ দেওয়া ৭ ধারা পুনর্বহাল করতে হবে। বিএনপির নেতৃত্ব হতে হবে দুর্নীতিমুক্ত। দুর্নীতিবাজ কোনো নেতৃত্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নীতিগতভাবে কোনো সংলাপ করতে পারে না।

২. যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে বিএনপিকে। যুদ্ধাপরাধের বিচার হচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধাপরাধী এবং জঙ্গিবাদে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিএনপি নিবিড় যোগাযোগ। উগ্র মৌলবাদী, যুদ্ধাপরাধী, দেশদ্রোহীদের দোসর কারও সঙ্গে আওয়ামী লীগ বৈঠকে বসতে পারে না।

৩. বিএনপি এখনো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকার করে না এবং শোক দিবস পালন করে না। অথচ সংবিধানিক ভাবেই এটি স্বীকৃত। বিএনপিকে যদি বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হয়,

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ করতে হয় তাহলে অবশ্যই জাতির পিতাকে স্বীকার করে নিতে হবে। এই দিনে শোক দিবস পালন করতে হবে। একই সঙ্গে ১৫ আগস্টে বেগম জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালন করা যাবে না। ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার সব ধরনের উৎসব বাতিল করতে হবে।

৪. বিএনপিকে বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। অন্যায্য ও অযৌক্তিক কোনো দাবি নিয়ে আলোচনা হতে পারে না। আলোচনা হতে হবে সংবিধানের আওতায় নির্বাচন। সাংবিধানিক বহির্ভূত কোনো নির্বাচন বা কোনো কথা গ্রহণযোগ্য হবে না।

৫. বিএনপিকে নিয়ে সংলাপ হবে নির্বাচন কীভাবে আরও সফলভাবে করা যায় তা নিয়ে। নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে কোনো সংলাপ হবে না। নির্বাচন কীভাবে ভালো করা যায় তা নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে যাওয়ার অঙ্গীকারপূর্বক বিএনপিকে সংলাপে যেতে হবে।

জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ঢাকাস্থ অফিসকে সংলাপের শর্তগুলো জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে আজ রোববার বা কাল সোমবার বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট। দুটি মাধ্যমেই বিএনপিকে আওয়ামী লীগের শর্তগুলোর কথা জানানো হবে।

আওয়ামী লীগের দেওয়া শর্তগুলো বিএনপি মেনে সংলাপে যেতে চাইলে সেই কথা ইইউ প্রতিনিধি ও মার্কিন দূতাবাস মারফত আওয়ামী লীগকে জানানো হবে। আর এরপরই হতে পারে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংলাপ।

আ’লীগে শোকের ছায়া – Diganta

আসছে আগস্ট মাস। এই মাসের বিভিন্ন দিনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে পড়তে হয়েছে নানান প্রতিকূলতার মধ্যে। ১৫ আগস্ট আসলে জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ড ভেসে উঠে সবার মাঝে। যার ফলে বছরের এই আগস্ট মাস আসতে আসতেই আওয়ামী লীগে নেমে আসে শোকের ছায়া।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস

শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। ইতিহাসের বেদনাবিধুর ও বিভীষিকাময় এক দিন। ১৯৭৫ সালের এইদিন অতিপ্রত্যুষে ঘটেছিল ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ঘটনা। সেনাবাহিনীর কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সৈনিকের হাতে সপরিবারে প্রাণ দিয়েছিলেন বাঙালির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তান, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এই নৃশংস হামলার ঘটনায় আরও যারা প্রাণ হারিয়েছিলেন তারা হলেন- বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের, কর্নেল জামিল, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খানসহ অনেকে। আগস্ট মাসটি তাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে শোকের মাস।

ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাসভবনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হলেও সেদিন দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। সে সময় স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানিতে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে।

বাংলাদেশ ও বাঙালির সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী শোকের দিন ১৫ আগস্ট। রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে সেদিন জাতির পিতার শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হবে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে কাপুরুষোচিত আক্রমণ চালায় ঘাতক দল। সে নারকীয় হামলার পর দেখা গেছে, ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ভবনটির প্রতিটি তলার দেয়াল, জানালার কাচ, মেঝে ও ছাদে রক্ত, মগজ ও হাড়ের গুঁড়ো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। গুলির আঘাতে দেয়ালগুলোও ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। চারপাশে রক্তের সাগরের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ঘরের জিনিসপত্র।

প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে নিথর পড়ে আছেন চেক লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ। তার তলপেট ও বুক ছিল বুলেটে ঝাঁঝরা। পাশেই পড়ে ছিল তার ভাঙা চশমা ও অতিপ্রিয় তামাকের পাইপটি। অভ্যর্থনা কক্ষে শেখ কামাল, মূল বেডরুমের সামনে বেগম মুজিব, বেডরুমে সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজী জামাল, নীচতলার সিঁড়িসংলগ্ন বাথরুমে শেখ নাসের এবং মূল বেডরুমে দুই ভাবির ঠিক মাঝখানে বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলের লাশ।

লুঙ্গিতে জড়ানো শিশু রাসেলের রক্তভেজা লাশ দেখে খুনিদের প্রতি চরম ঘৃণা-ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পান না মানবতাবাদী বিশ্বের কোনো মানুষ। এভাবেই নারকীয় পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা

রক্তস্নাত বিভীষিকাময় ২১শে আগস্ট। ভয়াল বিস্ফোরণ, বীভত্স রাজনৈতিক হত্যাযজ্ঞের একটি দিন। নারকীয় গ্রেনেড হামলার ত্রয়োদশ বার্ষিকী। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা বাংলাদেশে এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের জন্ম দেয়। সেদিন দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরীতে। তত্কালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পরোক্ষ মদদে এই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিলো বলে তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হয়েছে।

২০০৪ সালের এই দিনে গ্রেনেড হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী বেগম আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হয়েছিলেন। আহত হয়েছিলেন প্রায় ৪০০ নেতা-কর্মী। এদের অনেকেই এখনো শরীরে গ্রেনেডের স্প্রিন্টার নিয়ে দুঃসহ জীবন কাটাচ্ছেন। সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে, তিনি রক্ষা পেলেও তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেদিনের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি পৃথক মামলায় আদালতে দাখিলকৃত চার্জশিটে ৫২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী, মহীয়সী নারী, বাঙালির সকল লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনের নেপথ্যের প্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী ৮ আগষ্ট। ১৯৩০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে জাতির পিতা হত্যাকারীদের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে তিনিও শাহাদাতরণ করেন। শহীদ বঙ্গমাতা মাত্র তিন বছর বয়সে পিতা ও পাঁচ বছর বয়সে মাতাকে হারান। তার ডাক নাম ছিল ‘রেনু’। পিতার নাম শেখ জহুরুল হক ও মাতার নাম হোসনে আরা বেগম। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে তিনি প্রাথমিক লেখাপড়া করেন। অতঃপর সামাজিক রীতি-নীতির কারণে গ্রামে গৃহশিক্ষকের কাছে লেখাপড়া করতেন।

বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের স্মৃতি শক্তি অত্যন্ত প্রখর ছিল। মনে প্রাণে তিনি একজন আদর্শ বাঙালি নারী ছিলেন। অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা, অসীম ধৈর্য ও সাহস নিয়ে জীবনে যে কোনো পরিস্থিতি দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবেলা করতেন। তার কোনো বৈষয়িক চাহিদা ও মোহ ছিল না। স্বামীর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বান্তকরণে সহযোগিতা করেছেন।

গ্রেনেড হামলায় নিহত আইভি রহমান

ভয়াল-বীভৎস ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা বেগম আইভি রহমান। ওই হামলায় আহত হওয়ার পর টানা তিনদিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী বেগম আইভি রহমানের মৃত্যুর সময় বয়স ছিল ৬০ বছর ১ মাস ১৭ দিন। আইভি রহমানের পুরো নাম জেবুন নাহার রহমান আইভি। ১৯৪৪ সালের ৭ জুলাই ভৈরবের সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম। তার পিতা জালাল উদ্দিন আহমেদ ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও মা হাসিনা বেগম একজন আদর্শ গৃহিণী ছিলেন।

ভোট ডাকাতিতে সহযোগিতা করছেন সিইসি!

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাকে আওয়ামী লীগের নেতা আখ্যায়িত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘এই নির্বাচন কমিশন

গঠনে শুরু থেকেই সরকারের গলদ রয়েছে। গঠনের সময় লোক দেখানো আলোচনা করে তারা তাদের পরীক্ষিত লোকদেরকে এখানে স্থান করে দিয়েছে। বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার

জনতার মঞ্চের নেতৃত্বদানকারী অর্থাৎ আওয়ামী লীগের একজন নেতাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি (সিইসি) যে কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা করেছেন

প্রত্যেকটি জায়গায় জনগণের পাশে না থেকে সরকারের আজ্ঞাবাহী হয়ে কাজ করে তাদের ভোট ডাকাতিতে সহযোগিতা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু স্বাভাবিক

নির্বাচন হবে কেউ বিশ্বাস করে না। এদের দ্বারা জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু আশা করা যায় না।’ মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরাম

আয়োজিত ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ভূমিকম্প এবং সরকারের নীল নকশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সরকার তার সকল কর্মকাণ্ড আগামী নির্বাচনকে

কেন্দ্র করে করছে মন্তব্য করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘তারা আরও একটি পাতানো সাজানো নির্বাচন করে আবারও স্বৈরতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে চায়। শেখ হাসিনার অধীনে কখনও সুষ্ঠু

নির্বাচন হতে পারে না। ৫ জানুয়ারি দেশে কোনো নির্বাচন হয়নি।’ সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করাই বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ এমন মন্তব্য করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে জনগণ যাতে

তাদের ভোটাধিকার আদায় করতে পারে এমন নির্বাচন আমাদেরকে আদায় করে নিতে হবে। দেশ স্বৈরাচার মুক্ত না হলে এটা কোনোভাবেই সম্ভব না। কোনো স্বৈরাচার ইচ্ছে করে ক্ষমতা ছাড়তে চায় না।

জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে এই স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটিয়েই আমাদেরকে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।’ কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা

করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করেছেন। সংসদে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন কোনো কোটাই থাকবে না। সরকার কতটা ভীতু যে ছাত্রদের ন্যায্য দাবিকে

দাবিয়ে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সংসদে প্রতারণা করলেন।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্টে রাখা সোনার চাকতি ভুতুড়েভাবে মিশ্র ধাতু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আজকের পত্রপত্রিকা

দেখেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্টে ৯৬৩ কেজি স্বর্ণ রাখা ছিল কিন্তু সেটি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের জায়গায় ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ হয়ে গেছে। জমা রাখা হয়েছিল সোনার চাকতি, তা হয়ে আছে মিশ্র ধাতু।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এ ভয়ংকর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে বেশির ভাগের ক্ষেত্রে এ

অনিয়ম পেয়েছে।’ আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে এবং সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান

সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, সাবেক সাংসদ আহসান হাবিব লিঙ্কন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

দেশের বেশিরভাগ মানুষ দুর্নীতির সরাসরি ভুক্তভোগী: মান্না

বাংলাদেশ থেকে এখন বছরে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ব‌লেছেন, ‘দেশের বেশিরভাগ মানুষ প্রান্তিক দুর্নীতির সরাসরি

ভুক্তভোগী।’ তিনি বলেন, ‘জিডিপি এবং মাথাপিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে ক্ষমতাসীন সরকার দাবি করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশে অনেক অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর

পরিসংখ্যান আমাদের ভিন্ন গল্প বলে।’ মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনস্ট স্টেট করাপশন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। মান্না বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে

সমাজের মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কাছে চলে যাওয়া টাকা শেষ পর্যন্ত দেশে না থেকে পাচার হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির তথ্য মতে ২০০৫ থেকে ২০১৪ এই ১০ বছরে বাংলাদেশ

থেকে পাচার হয়েছে কমপক্ষে ৬ লক্ষ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২০১৪ সালে হয়েছিল ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ততথ্যের নিরিখে ২০১৪ সালকে ভিত্তি ধরে এটা যৌক্তিকভাবে অনুমান করাই যায়।’

মান্না বলেন, ‘পাচারের অংকটি এখন বছরে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। দেশের বেশিরভাগ মানুষ প্রান্তিক দুর্নীতির সরাসরি ভুক্তভোগী বলে সেটা সম্পর্কেই কম-বেশি ধারণা রাখে। দুর্নীতি এ দেশে

কতটা বীভৎস পর্যায়ে চলে গেছে সেটা তারা অনেকেই জানে না। তারা এটা বোঝেও না। এই রাষ্ট্রের কাছ থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতসহ অন্যান্য খাতে তাদের যা যা প্রাপ্য সেসব তারা

পায় না সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কারণেই।’ তিনি বলেন, ‘মানুষকে দুর্নীতি নিয়ে যথেষ্ট তথ্য দিতে হবে এবং এর মাধ্যমে মানুষকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন করতে হবে। মানুষের এই জানাশোনা, এই সচেতনতা

মানুষকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রণোদনা যোগাবে।’ মান্না বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব আমরা অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই। তাই ক্যাম্পেইন এর জন্য যতগুলো মাধ্যমে সম্ভব

আমরা প্রচারণা চালিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশের দুর্নীতি এতটাই সর্বগ্রাসী যে শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেই না, ছড়িয়ে পড়েছে বেসরকারি সেক্টরেও।’ সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা.

জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, জাসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন প্রমুখ।

আরো পড়ুন>> রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেখানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসী তান্ডব চরম আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী আহমেদ বলেন, আজ নগরীর

সাগরপাড়ায় জেলা ছাত্রদলের গণসংযোগ কর্মসূচি উদ্বোধন কালে আওয়ামী দুস্কৃতিকারিরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সন্ত্রাসীদের নিক্ষিপ্ত ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসেরন

উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপি কর্মী স্বপন কর্মকারসহ কয়েকজন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন যে, তিনটি সিটি কর্পোরেশন

নির্বাচন খুলনা ও গাজীপুরের মতো হবে। এখন তাঁর বক্তব্যের সেই আলামত ফুটে উঠতে শুরু করেছে। রাজশাহীতে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় ককটেল হামলা নির্বাচনী নতুন মডেলের আরেকটি

প্রাথমিক পদক্ষেপ। আতঙ্কিত পরিবেশ তৈরী করে ভোটারশুন্য নির্বাচন করতেই এই হামলা। ভোটার’রা জানেন না, আওয়ামী লীগ সামনের দিনগুলোতে আরও কী পরিস্থিতি তৈরী করে। আমি দলের পক্ষ

থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এই ন্যাক্কারজনক ককটেল হামলার তীব্র ধিক্কার, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে দুস্কৃতিকারিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি। আহতদের আশু সুস্থতা

কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুইয়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

সিলেটে প্রচারনায় কামরান-আরিফ সমান সমান, যোবায়ের এগিয়ে

হযরত শাহজালাল (র) মাজারের মূল সড়কে প্রবেশ করলে আর আকাশ দেখা যায় না। নীল আকাশকে আড়াল করেছে সাদাকালো পোস্টার। সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরো সিলেট নগরীরই

দৃশ্যত এই চিত্র। দেয়াল, বিদ্যুতের খুঁটি, টেলিফোনের তার, গাছপালা, সর্বত্র ঝুলছে মেয়র, কাউন্সিলর আর নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার। ভোটের হিসাবে যা-ই হোক, পোস্টার-প্রচারে এখন পর্যন্ত সমানে

সমান প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের বদরউদ্দিন আহমদ কামরান এবং বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী। নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এই দুই প্রার্থীর মধ্যে পোস্টার

লাগানো নিয়ে চলছে ঠা-া লড়াই। একে অপরের বিরুদ্ধে পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগও করেছেন সাবেক দুই মেয়র। দড়িতে টানানো এক প্রার্থীর পোস্টার নামিয়ে অন্য প্রার্থীর পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে

অভিযোগ তাদের কর্মীদের। নগরীর মূল সড়কগুলো ঘুরে দেখা যায়, কামরান-আরিফের চেয়েও পোস্টার বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের। জামায়াতের এই মহানগর আমির লড়াই করছেন টেবিল

ঘড়ি প্রতীক নিয়ে। সবচেয়ে কম পোস্টার বদরুজ্জামান সেলিমের। বাসগাড়ি প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে থাকা বিএনপির এই বিদ্রোহী প্রার্থী প্রচারও শুরু করেছেন কিছুটা দেরিতে। দলের ওপর মহলের অনৈতিক

চাপ, তার কর্মী-সমর্থকদের হুমকিসহ নানান প্রতিকূলতার জন্য তার প্রচারে বিঘœ ঘটছে বলে জানান সদ্য দল থেকে বহিষ্কৃত বদরুজ্জামান সেলিম। পোস্টারের ছড়াছড়ির মধ্যে ভোটের হিসাবও মেলাচ্ছেন

সমর্থকরা। তাদের মতে, জামায়াতকে এখনো সেভাবে হিসাবে না ধরা হলেও রক্ষণশীল এলাকা সিলেটে তাদের বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলও সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে তাদের

প্রার্থীর পেছনে। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পোস্টারের সংখ্যার মতো ভোটের সব হিসাবও পাল্টে দিতে পারে তারা। এদিকে জামায়াত ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় চাপে থাকা বিএনপির প্রার্থী আরিফুল

হকের জন্য নতুন ঝামেলা হয়েছে ছাত্রদলের বিরোধ। সদ্য গঠিত ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিরোধ মেটাতে বিদ্রোহীদের ঢাকায় ডেকে সান্তনা দিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে নির্বাচনের পর কমিটি পুনর্গঠনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন>> রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেখানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসী তান্ডব চরম আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী আহমেদ বলেন, আজ নগরীর

সাগরপাড়ায় জেলা ছাত্রদলের গণসংযোগ কর্মসূচি উদ্বোধন কালে আওয়ামী দুস্কৃতিকারিরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সন্ত্রাসীদের নিক্ষিপ্ত ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসেরন

উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপি কর্মী স্বপন কর্মকারসহ কয়েকজন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন যে, তিনটি সিটি কর্পোরেশন

নির্বাচন খুলনা ও গাজীপুরের মতো হবে। এখন তাঁর বক্তব্যের সেই আলামত ফুটে উঠতে শুরু করেছে। রাজশাহীতে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় ককটেল হামলা নির্বাচনী নতুন মডেলের আরেকটি

প্রাথমিক পদক্ষেপ। আতঙ্কিত পরিবেশ তৈরী করে ভোটারশুন্য নির্বাচন করতেই এই হামলা। ভোটার’রা জানেন না, আওয়ামী লীগ সামনের দিনগুলোতে আরও কী পরিস্থিতি তৈরী করে। আমি দলের পক্ষ থেকে

আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এই ন্যাক্কারজনক ককটেল হামলার তীব্র ধিক্কার, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে দুস্কৃতিকারিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি। আহতদের আশু সুস্থতা কামনা

করছি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুইয়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

‘আমি তোর বাপ, হারামজাদা!’ ফোনে ঢাবি অধ্যাপককে হুমকি

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংহতি জানানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাককে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে তিনি ০১ জুলাই শাহবাগ

থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক জিডিতে উল্লেখ করেন গত ২৮ জুন +৩৩১২৩৪৫৬৭৮ নম্বর থেকে ফোন করে তাকে প্রাণনাশর হুমকি দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন,

‘আমাকে একাধিকবার কল দেওয়া হয়েছে।’ অজ্ঞাত পরিচয় নম্বর থেকে ফোন আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেদিনের ঘটনার পর আমাকে দুইবার ফোন দিয়েছিল। অপরিচিত নম্বর তাই আমি রিসিভ করে

জিজ্ঞাসা করলাম ‘কে আপনি?’ জবাবে আমাকে বলে, ‘আমি তোর বাপ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কেন গিয়েছিলি? আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা জীবনে ছাত্রলীগের এমন নজির কখনো দেখিনি।’

অধ্যাপক রাজ্জাকের ধারণা যারা হুমকি দিয়েছে তারা ছাত্রলীগের নেতা। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের সমাবেশে সংহতি জানিয়ে অংশগ্রহণ করেছি। এর

কিছুক্ষণ পর দেশি-বিদেশি দুটো নম্বর থেকে আমাকে অশ্লীল ভাষায় হুমকি দেওয়া হয়।’ আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, ‘যেভাবে আমাকে তুই-তুকারি করে কথা বলছিল আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়ত

আমার বন্ধু হবে। কিন্তু যখন জিজ্ঞেস করলাম ‘আপনি কে?’ তখন আমাকে বলে, ‘আমি তোর বাপ, হারামজাদা!’ এরপর বাজে মন্তব্য এবং অশ্লীল ভাষায় জানতে চায় আমি কেন শিক্ষার্থীদের পাশে

দাঁড়িয়েছি?’ ‘তারা এর আগে আমাকে গত আট তারিখেও ফোন করেছিল। বিভিন্ন সময় তারা আমাকে হুমকি দিয়েছে। আমি তাদের নাম্বারগুলো নিয়ে শাহবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।’ ক্ষমতাসীন

দল আওয়ামী লীগের সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাংবাদিকতা বিভাগের এ অধ্যাপক বলেন, ‘তারা যা করছে এগুলো প্রশাসনের প্রশ্রয়ে হচ্ছে। যেভাবে শিক্ষক-ছাত্ররা লাঞ্ছিত হচ্ছে, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

আরো পড়ুন>> রাজশাহীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের গণসংযোগস্থলে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে একজন সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত

হয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে নগরীর সাগরপাড়া বটতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- তিন বিএনপিকর্মী কালু, হাবিব ও খোকন। এছাড়া স্থানীয়

কর্মকার তপনও আহত হয়। অন্যদিকে দায়িত্ব পালনের সময় বাংলাভিশনের রাজশাহীর রিপোর্টার পরিতোষ চৌধুরী আদিত্যও চোখে আঘাত পেয়েছেন। আহত আরও কয়েক জনের নাম জানা যায়নি। তাদের

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এ বিস্ফোরণ ও হামলার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাসিকের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী

এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের লোকদের দায়ী করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৌনে ১১টার দিকে নগরীর সাগরপাড়া বটতলা এলাকায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের ধানের শীষ

প্রতীকের পক্ষে পথসভা করছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রূহুল কুদ্দুশ তালুকদার দুলু ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল

হোসেন তপু, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু এবং জেলা ছাত্রদল সভাপতি রেজাউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জনি। বিএনপি নেতা রূহুল কুদ্দুশ দুলু বক্তব্য দেয়ার সময় তিনটি

মোটরসাইকেলে ছয়জন দুর্বৃত্ত মুখোশ পরা অবস্থায় ঘটনাস্থলে এসে দূর থেকে পরপর তিনটি ককটেল ছুড়ে মারে। ককটেলগুলো বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং এতে ১০ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা

ককটেল ছুড়ে দিয়েই টিকাপাড়া সড়ক দিয়ে পূর্বদিকে চলে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ ঘটনার পরপরই মিনু সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তারা

নির্বাচনী পরিবেশকে কলুষিত করতে ও ভোটারদের মনে ভীতির সঞ্চার করতেই পরিকল্পিতভাবে ককটেল হামলা চালিয়েছে। তারা বিএনপির নির্বাচনী সভা ভণ্ডুল করে দিয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনাকে বিএনপির

সাজানো নাটক উল্লেখ করে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, বিএনপির জঙ্গি পৃষ্টপোষক নেতারা বিএনপির প্রার্থীর প্রচারণায় এসে রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে

বিনষ্ট করতে চায়। তিনি এ ব্যাপারে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন। এদিকে এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি আমান উল্লাহ বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের আগে এ ব্যাপারে কোনো কিছু বলা সম্ভব নয়।

রাসিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের তান্ডব চরম আকার ধারণ করেছে: বিএনপি

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেখানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসী তান্ডব চরম আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট

রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী আহমেদ বলেন, আজ নগরীর সাগরপাড়ায় জেলা ছাত্রদলের গণসংযোগ

কর্মসূচি উদ্বোধন কালে আওয়ামী দুস্কৃতিকারিরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সন্ত্রাসীদের নিক্ষিপ্ত ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসেরন উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান

হাবিব, বিএনপি কর্মী স্বপন কর্মকারসহ কয়েকজন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন যে, তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন খুলনা ও গাজীপুরের মতো হবে। এখন

তাঁর বক্তব্যের সেই আলামত ফুটে উঠতে শুরু করেছে। রাজশাহীতে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় ককটেল হামলা নির্বাচনী নতুন মডেলের আরেকটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। আতঙ্কিত পরিবেশ তৈরী করে

ভোটারশুন্য নির্বাচন করতেই এই হামলা। ভোটার’রা জানেন না, আওয়ামী লীগ সামনের দিনগুলোতে আরও কী পরিস্থিতি তৈরী করে। আমি দলের পক্ষ থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এই ন্যাক্কারজনক ককটেল

হামলার তীব্র ধিক্কার, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে দুস্কৃতিকারিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি। আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুইয়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

রাজশাহীতে বিএনপির মেয়রপ্রার্থীর প্রচারণায় ককটেল হামলা, সাংবাদিকসহ আহত ১০

রাজশাহীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের গণসংযোগস্থলে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে একজন সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ

মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে নগরীর সাগরপাড়া বটতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- তিন বিএনপিকর্মী কালু, হাবিব ও খোকন। এছাড়া স্থানীয় কর্মকার তপনও আহত হয়। অন্যদিকে

দায়িত্ব পালনের সময় বাংলাভিশনের রাজশাহীর রিপোর্টার পরিতোষ চৌধুরী আদিত্যও চোখে আঘাত পেয়েছেন। আহত আরও কয়েক জনের নাম জানা যায়নি। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে

ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এ বিস্ফোরণ ও হামলার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাসিকের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের লোকদের

দায়ী করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৌনে ১১টার দিকে নগরীর সাগরপাড়া বটতলা এলাকায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে পথসভা করছিলেন দলটির কেন্দ্রীয়

সাংগঠনিক সম্পাদক রূহুল কুদ্দুশ তালুকদার দুলু ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু এবং

জেলা ছাত্রদল সভাপতি রেজাউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জনি। বিএনপি নেতা রূহুল কুদ্দুশ দুলু বক্তব্য দেয়ার সময় তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়জন দুর্বৃত্ত মুখোশ পরা অবস্থায় ঘটনাস্থলে

এসে দূর থেকে পরপর তিনটি ককটেল ছুড়ে মারে। ককটেলগুলো বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং এতে ১০ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা ককটেল ছুড়ে দিয়েই টিকাপাড়া সড়ক দিয়ে পূর্বদিকে চলে যায়

বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ ঘটনার পরপরই মিনু সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তারা নির্বাচনী পরিবেশকে কলুষিত করতে ও ভোটারদের মনে ভীতির

সঞ্চার করতেই পরিকল্পিতভাবে ককটেল হামলা চালিয়েছে। তারা বিএনপির নির্বাচনী সভা ভণ্ডুল করে দিয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনাকে বিএনপির সাজানো নাটক উল্লেখ করে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী

লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, বিএনপির জঙ্গি পৃষ্টপোষক নেতারা বিএনপির প্রার্থীর প্রচারণায় এসে রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বিনষ্ট করতে চায়। তিনি এ ব্যাপারে দোষীদের চিহ্নিত

করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন। এদিকে এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি আমান উল্লাহ বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের আগে এ ব্যাপারে কোনো কিছু বলা সম্ভব নয়।

পুলিশ এসআইকে গণপিটুনী – Diganta

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে হাতেম আলী (২০) নামে এক যুবকের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে টাকা নেয়ার সময় সিংগাইর থানার এএসআই মো. মানিকুজ্জামান মানিককে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা। খবর যুগান্তরের।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর নতুন বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. ওবায়দুর রহমান মিডিয়াকে বলেন, এক পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে করে থানার এএসআই মো. মানিকুজ্জামান মানিক আমাদের এলাকার বিরবলের ছেলে হাতেম আলীর পকেটে দুটি ইয়াবা ঢুকিয়ে টাকা দাবি করে।

এরপর দুজনকে জোর করে সাক্ষী বানিয়ে তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মারধর শুরু করেন। এ সময় স্থানীয়রা ওই শ্রমিকের পক্ষে পুলিশকে ছেড়ে দেয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন।

পুলিশ উত্তেজিত হয়ে একপর্যায়ে হাতেমকে থানায় নেয়ার জন্য মোটরসাইকেলে তোলেন। এতে উত্তেজিত জনতা এএসআইকে গণধোলাই দেয়। এরপর থানার ওসি ওই এএসআই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এমন আশ্বাসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে যায়।

বলধারা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মাজেদ খান বলেন, এ ছেলেটি অত্যন্ত ভালো এবং নিরীহ প্রকৃতির। কখনো নেশা পান করে না। অথচ পুলিশ তার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেয়াটা মোটেই ঠিক করেনি। পরে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি।

এএসআই মানিকুজ্জামান বলেন, সোর্সের সঙ্গে ওই ছেলেটির কয়েক দিন আগে মারামারি হয়েছিল। সেই সোর্সের ভুল তথ্যের কারণে বিষয়টি ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছিল। চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে তা মিটমাট হয়ে গেছে।